মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ভোলাগঞ্জ কি আবারও ফিরে পাবে তার আসল রূপ?
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৫
ভোলাগঞ্জ কি আবারও ফিরে পাবে তার আসল রূপ?
সিলেটের ভোলাগঞ্জ একসময় ছিল প্রকৃতির স্বর্গীয় নিদর্শন। সাদা পাথরে ঘেরা সেই সৌন্দর্য এখন লুটপাট আর অবহেলায় ক্ষতবিক্ষত। প্রকাশ্যে কোটি কোটি ঘনফুট পাথর চলে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে—চাইলেই কি আবার আগের মতো সাজানো সম্ভব ভোলাগঞ্জ?
উদ্ধার অভিযানে প্রশাসন যে পাথর পাচ্ছে, সেগুলো আবার পুরোনো স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া খুবই ধীর। দেড় কোটির বেশি ঘনফুট পাথর লোপাট হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েক লাখ ঘনফুটের সন্ধান মিলেছে। আর পুনঃস্থাপনের কাজ তো এখনও হাজার ঘনফুটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
পরিবেশবিদদের মতে, এই উদ্যোগ আসলে তেমন কার্যকর নয়। মানুষের হাতে সাজানো পাথর কখনোই প্রকৃতির নিজের মতো করে জায়গা করে নিতে পারে না। ফলে যতই ফেরত দেওয়া হোক, তাতে ভোলাগঞ্জ আগের মতো হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং সময়ের সঙ্গে এভাবে ফেলা পাথর আরও বিপদের কারণ হতে পারে, কারণ এগুলো বালি বা মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)–এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, “পাথর পুনঃস্থাপন নামে এক অদ্ভুত শব্দ আমরা এখন শুনছি। কিন্তু বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। শেষ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে প্রকৃতির প্রতি। কবে আবার উজান থেকে নতুন ঢলে পাথর আসবে, সেটাই এখন মূল ভরসা।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজাও একই সুরে বলেন, “প্রতি বছর ঢলে পাথর আসে না। কোনো কোনো সময়ে প্রকৃতির দান হিসেবে একসঙ্গে প্রচুর পাথর আসে—যেমন ১৯৯০ সালে হয়েছিল। তাই কেবলই অপেক্ষা করাই এখন পথ।”
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ধাপে ধাপে এই কাজ এগোনো হবে। তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, “পাথর প্রতিস্থাপন” নামের এই উদ্যোগ যেন আবারও অর্থ লুটপাটের নতুন খাতে পরিণত না হয়।
অতএব, ভোলাগঞ্জকে আবার আগের রূপে ফেরানো মানুষের হাতে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় থেকেই যাচ্ছে। প্রকৃতি নিজে নতুন করে সাজালে তবেই হয়তো ফিরবে সাদা পাথরের সেই অতুলনীয় সৌন্দর্য
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন