ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : শনিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মাদক-স'ন্ত্রাস ও চাঁ'দাবাজি দূর করার প্রতিশ্রুতি ইব্রাহিমের, পাশে থাকার ঘোষণা স্থানীয়দের

মাদক-স'ন্ত্রাস ও চাঁ'দাবাজি দূর করার প্রতিশ্রুতি ইব্রাহিমের, পাশে থাকার ঘোষণা স্থানীয়দের

উনত্রিশের আহ্বান, রক্তদানে বাঁচুক প্রাণ’: কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ‘বাঁধন’-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

উনত্রিশের আহ্বান, রক্তদানে বাঁচুক প্রাণ’: কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ‘বাঁধন’-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

সারে তিন  মিনিটে মন্ত্রীকে ৪৫  বার ‘স্যার’, ডাকা  সেই ইউএনও আবারও আলোচনায়।

সারে তিন মিনিটে মন্ত্রীকে ৪৫ বার ‘স্যার’, ডাকা সেই ইউএনও আবারও আলোচনায়।

বেগমগঞ্জে ধীতপুর ইয়াং স্টার স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বেগমগঞ্জে ধীতপুর ইয়াং স্টার স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

নোয়াখালীতে ভাড়া বাসা থেকে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত ম'রদেহ উদ্ধার

নোয়াখালীতে ভাড়া বাসা থেকে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত ম'রদেহ উদ্ধার

জিয়ানগরে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হোটেল, ক্ষতি ১০ লাখ টাকা

জিয়ানগরে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হোটেল, ক্ষতি ১০ লাখ টাকা

৩৫ বছরের শিক্ষকতা শেষে বিদায়, আবেগঘন সিদ্ধার্থ স্যারের শেষ কর্মদিবস

৩৫ বছরের শিক্ষকতা শেষে বিদায়, আবেগঘন সিদ্ধার্থ স্যারের শেষ কর্মদিবস

জিয়ানগরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

জিয়ানগরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

১৬ কোটি টাকার কফি-কাজু প্রকল্পে নেই সাফল্য, ভেসে উঠছে অনিয়মের অভিযোগ

১৬ কোটি টাকার কফি-কাজু প্রকল্পে নেই সাফল্য, ভেসে উঠছে অনিয়মের অভিযোগ
১৬ কোটি টাকার কফি-কাজু প্রকল্পে নেই সাফল্য, ভেসে উঠছে অনিয়মের অভিযোগ বান্দরবানের সম্ভাবনাময় কফি ও কাজুবাদাম চাষ প্রকল্প ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো কার্যকর ফলাফল চোখে পড়ছে না। বরং স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের নাম করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তিন পার্বত্য জেলার জন্য বরাদ্দকৃত এই প্রকল্পে শুধু বান্দরবানেই ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় উন্নতমানের চারা সরবরাহ, নার্সারি স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ, সার-বালাইনাশক বিতরণ, সেচ সুবিধা, পানির ট্যাংক, প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র সরবরাহ ও উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণের মতো নানা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত চিত্রই সামনে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে নেই কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন, নেই সরঞ্জাম বা চাষাবাদ। কৃষকদের অভিযোগ—রোপণের মৌসুমে চারা না পেয়ে তারা অসময়ে নিম্নমানের চারা রোপণ করতে বাধ্য হয়েছেন, ফলে অধিকাংশ গাছ মারা গেছে। এছাড়া বান্দরবানের জন্য বরাদ্দ ৯২টি পানির ট্যাংকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ১২টি। অথচ ট্যাংক স্থাপনের জন্য আলাদা বরাদ্দকৃত অর্থ কোথাও খরচ হতে দেখা যায়নি। চাষিদের দাবি, দেওয়া চারাগুলো মানহীন ছিল—অনেক সময় ছেঁড়া প্যাকেট ও ভাঙা ভাল্বের চারাই তাদের হাতে এসেছে। ফলে পরিচর্যা করেও গাছ টেকানো যায়নি। তাদের ভাষায়, প্রকল্পটি কৃষকদের জন্য নয়, বরং কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য বাস্তবায়িত হয়েছে। বটতলীপাড়ার কৃষক মংক্য মারমা জানান, “আমাকে যে চারা দেওয়া হয়েছিল তার অধিকাংশই মারা গেছে, কেবল তিনটি গাছ বেঁচে আছে। শ্রম ও সময় দুটোই নষ্ট হলো। প্রকল্প আসলে কৃষকের উন্নয়নের জন্য নয়।” ময়ুরপাড়ার নারী চাষি মুইক্য চিং মারমার অভিজ্ঞতাও একই—“বর্ষা শেষে অসময়ে চারা দেওয়া হয়, পানির ব্যবস্থাও ছিল না। ফলে কোনো চারা টেকেনি। এই প্রকল্প আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়, কর্তা ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য।” রোয়াংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেহ্লা অং মারমা বলেন, “আমার এলাকায় আগে মিশ্র ফলের কিছু বাগান দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কফি-কাজু চাষের বিষয়ে আমি কোনো তথ্যই পাইনি। উন্নয়ন বোর্ড কীভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তা তদন্ত হওয়া জরুরি।” মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এক কর্মীও অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, “৯২টি পানির ট্যাংক দেওয়ার কথা থাকলেও আমাকে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ১২টি, আর সেগুলোও কর্মকর্তাদের নির্দেশে শুধু রাস্তার পাশে স্থাপন করেছি যাতে সহজে দেখা যায়।” তবে প্রকল্প পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন স্বীকার করেছেন কিছু ত্রুটি ছিল। তার ভাষায়, “সময়ে সবকিছু দেওয়া সম্ভব হয়নি, এজন্য কিছু অর্থ ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে প্রকল্পে দুর্নীতি হয়নি, সবকিছু কমিটির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।” সরকারি কাগজে কোটি টাকার প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে কৃষকরা যখন কোনো সুফল পাচ্ছেন না, তখন স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ বিপুল অর্থ কোথায় ব্যয় হলো? বান্দরবানের সম্ভাবনাময় কফি ও কাজুবাদাম চাষ প্রকল্প ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো কার্যকর ফলাফল চোখে পড়ছে না। বরং স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের নাম করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তিন পার্বত্য জেলার জন্য বরাদ্দকৃত এই প্রকল্পে শুধু বান্দরবানেই ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় উন্নতমানের চারা সরবরাহ, নার্সারি স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ, সার-বালাইনাশক বিতরণ, সেচ সুবিধা, পানির ট্যাংক, প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র সরবরাহ ও উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণের মতো নানা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত চিত্রই সামনে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে নেই কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন, নেই সরঞ্জাম বা চাষাবাদ। কৃষকদের অভিযোগ—রোপণের মৌসুমে চারা না পেয়ে তারা অসময়ে নিম্নমানের চারা রোপণ করতে বাধ্য হয়েছেন, ফলে অধিকাংশ গাছ মারা গেছে। এছাড়া বান্দরবানের জন্য বরাদ্দ ৯২টি পানির ট্যাংকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ১২টি। অথচ ট্যাংক স্থাপনের জন্য আলাদা বরাদ্দকৃত অর্থ কোথাও খরচ হতে দেখা যায়নি। চাষিদের দাবি, দেওয়া চারাগুলো মানহীন ছিল—অনেক সময় ছেঁড়া প্যাকেট ও ভাঙা ভাল্বের চারাই তাদের হাতে এসেছে। ফলে পরিচর্যা করেও গাছ টেকানো যায়নি। তাদের ভাষায়, প্রকল্পটি কৃষকদের জন্য নয়, বরং কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য বাস্তবায়িত হয়েছে। বটতলীপাড়ার কৃষক মংক্য মারমা জানান, “আমাকে যে চারা দেওয়া হয়েছিল তার অধিকাংশই মারা গেছে, কেবল তিনটি গাছ বেঁচে আছে। শ্রম ও সময় দুটোই নষ্ট হলো। প্রকল্প আসলে কৃষকের উন্নয়নের জন্য নয়।” ময়ুরপাড়ার নারী চাষি মুইক্য চিং মারমার অভিজ্ঞতাও একই—“বর্ষা শেষে অসময়ে চারা দেওয়া হয়, পানির ব্যবস্থাও ছিল না। ফলে কোনো চারা টেকেনি। এই প্রকল্প আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়, কর্তা ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য।” রোয়াংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেহ্লা অং মারমা বলেন, “আমার এলাকায় আগে মিশ্র ফলের কিছু বাগান দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কফি-কাজু চাষের বিষয়ে আমি কোনো তথ্যই পাইনি। উন্নয়ন বোর্ড কীভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তা তদন্ত হওয়া জরুরি।” মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এক কর্মীও অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, “৯২টি পানির ট্যাংক দেওয়ার কথা থাকলেও আমাকে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ১২টি, আর সেগুলোও কর্মকর্তাদের নির্দেশে শুধু রাস্তার পাশে স্থাপন করেছি যাতে সহজে দেখা যায়।” তবে প্রকল্প পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন স্বীকার করেছেন কিছু ত্রুটি ছিল। তার ভাষায়, “সময়ে সবকিছু দেওয়া সম্ভব হয়নি, এজন্য কিছু অর্থ ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে প্রকল্পে দুর্নীতি হয়নি, সবকিছু কমিটির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।” সরকারি কাগজে কোটি টাকার প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে কৃষকরা যখন কোনো সুফল পাচ্ছেন না, তখন স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ বিপুল অর্থ কোথায় ব্যয় হলো?

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


১৬ কোটি টাকার কফি-কাজু প্রকল্পে নেই সাফল্য, ভেসে উঠছে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image
১৬ কোটি টাকার কফি-কাজু প্রকল্পে নেই সাফল্য, ভেসে উঠছে অনিয়মের অভিযোগ বান্দরবানের সম্ভাবনাময় কফি ও কাজুবাদাম চাষ প্রকল্প ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো কার্যকর ফলাফল চোখে পড়ছে না। বরং স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের নাম করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তিন পার্বত্য জেলার জন্য বরাদ্দকৃত এই প্রকল্পে শুধু বান্দরবানেই ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় উন্নতমানের চারা সরবরাহ, নার্সারি স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ, সার-বালাইনাশক বিতরণ, সেচ সুবিধা, পানির ট্যাংক, প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র সরবরাহ ও উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণের মতো নানা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত চিত্রই সামনে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে নেই কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন, নেই সরঞ্জাম বা চাষাবাদ। কৃষকদের অভিযোগ—রোপণের মৌসুমে চারা না পেয়ে তারা অসময়ে নিম্নমানের চারা রোপণ করতে বাধ্য হয়েছেন, ফলে অধিকাংশ গাছ মারা গেছে। এছাড়া বান্দরবানের জন্য বরাদ্দ ৯২টি পানির ট্যাংকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ১২টি। অথচ ট্যাংক স্থাপনের জন্য আলাদা বরাদ্দকৃত অর্থ কোথাও খরচ হতে দেখা যায়নি। চাষিদের দাবি, দেওয়া চারাগুলো মানহীন ছিল—অনেক সময় ছেঁড়া প্যাকেট ও ভাঙা ভাল্বের চারাই তাদের হাতে এসেছে। ফলে পরিচর্যা করেও গাছ টেকানো যায়নি। তাদের ভাষায়, প্রকল্পটি কৃষকদের জন্য নয়, বরং কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য বাস্তবায়িত হয়েছে। বটতলীপাড়ার কৃষক মংক্য মারমা জানান, “আমাকে যে চারা দেওয়া হয়েছিল তার অধিকাংশই মারা গেছে, কেবল তিনটি গাছ বেঁচে আছে। শ্রম ও সময় দুটোই নষ্ট হলো। প্রকল্প আসলে কৃষকের উন্নয়নের জন্য নয়।” ময়ুরপাড়ার নারী চাষি মুইক্য চিং মারমার অভিজ্ঞতাও একই—“বর্ষা শেষে অসময়ে চারা দেওয়া হয়, পানির ব্যবস্থাও ছিল না। ফলে কোনো চারা টেকেনি। এই প্রকল্প আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়, কর্তা ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য।” রোয়াংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেহ্লা অং মারমা বলেন, “আমার এলাকায় আগে মিশ্র ফলের কিছু বাগান দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কফি-কাজু চাষের বিষয়ে আমি কোনো তথ্যই পাইনি। উন্নয়ন বোর্ড কীভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তা তদন্ত হওয়া জরুরি।” মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এক কর্মীও অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, “৯২টি পানির ট্যাংক দেওয়ার কথা থাকলেও আমাকে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ১২টি, আর সেগুলোও কর্মকর্তাদের নির্দেশে শুধু রাস্তার পাশে স্থাপন করেছি যাতে সহজে দেখা যায়।” তবে প্রকল্প পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন স্বীকার করেছেন কিছু ত্রুটি ছিল। তার ভাষায়, “সময়ে সবকিছু দেওয়া সম্ভব হয়নি, এজন্য কিছু অর্থ ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে প্রকল্পে দুর্নীতি হয়নি, সবকিছু কমিটির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।” সরকারি কাগজে কোটি টাকার প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে কৃষকরা যখন কোনো সুফল পাচ্ছেন না, তখন স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ বিপুল অর্থ কোথায় ব্যয় হলো? বান্দরবানের সম্ভাবনাময় কফি ও কাজুবাদাম চাষ প্রকল্প ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো কার্যকর ফলাফল চোখে পড়ছে না। বরং স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের নাম করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তিন পার্বত্য জেলার জন্য বরাদ্দকৃত এই প্রকল্পে শুধু বান্দরবানেই ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় উন্নতমানের চারা সরবরাহ, নার্সারি স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ, সার-বালাইনাশক বিতরণ, সেচ সুবিধা, পানির ট্যাংক, প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র সরবরাহ ও উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণের মতো নানা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত চিত্রই সামনে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে নেই কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন, নেই সরঞ্জাম বা চাষাবাদ। কৃষকদের অভিযোগ—রোপণের মৌসুমে চারা না পেয়ে তারা অসময়ে নিম্নমানের চারা রোপণ করতে বাধ্য হয়েছেন, ফলে অধিকাংশ গাছ মারা গেছে। এছাড়া বান্দরবানের জন্য বরাদ্দ ৯২টি পানির ট্যাংকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ১২টি। অথচ ট্যাংক স্থাপনের জন্য আলাদা বরাদ্দকৃত অর্থ কোথাও খরচ হতে দেখা যায়নি। চাষিদের দাবি, দেওয়া চারাগুলো মানহীন ছিল—অনেক সময় ছেঁড়া প্যাকেট ও ভাঙা ভাল্বের চারাই তাদের হাতে এসেছে। ফলে পরিচর্যা করেও গাছ টেকানো যায়নি। তাদের ভাষায়, প্রকল্পটি কৃষকদের জন্য নয়, বরং কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য বাস্তবায়িত হয়েছে। বটতলীপাড়ার কৃষক মংক্য মারমা জানান, “আমাকে যে চারা দেওয়া হয়েছিল তার অধিকাংশই মারা গেছে, কেবল তিনটি গাছ বেঁচে আছে। শ্রম ও সময় দুটোই নষ্ট হলো। প্রকল্প আসলে কৃষকের উন্নয়নের জন্য নয়।” ময়ুরপাড়ার নারী চাষি মুইক্য চিং মারমার অভিজ্ঞতাও একই—“বর্ষা শেষে অসময়ে চারা দেওয়া হয়, পানির ব্যবস্থাও ছিল না। ফলে কোনো চারা টেকেনি। এই প্রকল্প আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়, কর্তা ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য।” রোয়াংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেহ্লা অং মারমা বলেন, “আমার এলাকায় আগে মিশ্র ফলের কিছু বাগান দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কফি-কাজু চাষের বিষয়ে আমি কোনো তথ্যই পাইনি। উন্নয়ন বোর্ড কীভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তা তদন্ত হওয়া জরুরি।” মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এক কর্মীও অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, “৯২টি পানির ট্যাংক দেওয়ার কথা থাকলেও আমাকে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ১২টি, আর সেগুলোও কর্মকর্তাদের নির্দেশে শুধু রাস্তার পাশে স্থাপন করেছি যাতে সহজে দেখা যায়।” তবে প্রকল্প পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন স্বীকার করেছেন কিছু ত্রুটি ছিল। তার ভাষায়, “সময়ে সবকিছু দেওয়া সম্ভব হয়নি, এজন্য কিছু অর্থ ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে প্রকল্পে দুর্নীতি হয়নি, সবকিছু কমিটির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।” সরকারি কাগজে কোটি টাকার প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে কৃষকরা যখন কোনো সুফল পাচ্ছেন না, তখন স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ বিপুল অর্থ কোথায় ব্যয় হলো?

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল