ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ নির্মাণে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুলের ২৫৪ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ ‎

নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ নির্মাণে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুলের ২৫৪ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ   ‎

নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে হবিগঞ্জে কর্মরত) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণকাজের টেন্ডারে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দরপত্রের প্রাক্কলিত মূল্য (Official Estimated Cost) পরিবর্তন করে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।


‎অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই আহ্বান করা হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজের তৃতীয় দফার দরপত্রের (টেন্ডার আইডি: ১১৩০৯৭৯) প্রাথমিক প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ২৫৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা।


‎অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে প্রথম সংশোধনীতে বিওকিউতে অতিরিক্ত ৬০ টন রড সংযোজন করা হলেও সেই অনুযায়ী প্রাক্কলিত মূল্য বাড়ানো হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত রডের মূল্য প্রায় ৭২ লাখ টাকা হওয়ায় মোট প্রাক্কলিত মূল্য ২৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও তা ২৫৪ কোটি ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।


‎এছাড়া, দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকাশ করা হয়। এতে নির্বাহী প্রকৌশলীর ই-জিপি আইডি হ্যাক হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সংশোধনীর মাধ্যমে আরও প্রায় দুই কোটি টাকা প্রাক্কলিত মূল্য কমানো হয়েছে। অথচ বিওকিউতে কোনো আইটেমের পরিমাণ পরিবর্তন করা হয়নি।


‎অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এভাবে প্রাক্কলিত মূল্য কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ থ্রেশহোল্ডের মধ্যে এনে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং অন্য প্রতিযোগী দরদাতাকে প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।


‎অভিযোগকারীদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ এর ধারা ৯ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ এর রুল ১৬, ৩১, ৩৩, ৯৮ ও ১০০-এর লঙ্ঘন। তারা বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


‎অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক কম দরকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা সরকারি ক্রয়বিধির পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।


‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


‎অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ হবে।


আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ নির্মাণে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুলের ২৫৪ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ ‎

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে হবিগঞ্জে কর্মরত) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণকাজের টেন্ডারে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দরপত্রের প্রাক্কলিত মূল্য (Official Estimated Cost) পরিবর্তন করে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।


‎অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই আহ্বান করা হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজের তৃতীয় দফার দরপত্রের (টেন্ডার আইডি: ১১৩০৯৭৯) প্রাথমিক প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ২৫৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা।


‎অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে প্রথম সংশোধনীতে বিওকিউতে অতিরিক্ত ৬০ টন রড সংযোজন করা হলেও সেই অনুযায়ী প্রাক্কলিত মূল্য বাড়ানো হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত রডের মূল্য প্রায় ৭২ লাখ টাকা হওয়ায় মোট প্রাক্কলিত মূল্য ২৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও তা ২৫৪ কোটি ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।


‎এছাড়া, দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকাশ করা হয়। এতে নির্বাহী প্রকৌশলীর ই-জিপি আইডি হ্যাক হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সংশোধনীর মাধ্যমে আরও প্রায় দুই কোটি টাকা প্রাক্কলিত মূল্য কমানো হয়েছে। অথচ বিওকিউতে কোনো আইটেমের পরিমাণ পরিবর্তন করা হয়নি।


‎অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এভাবে প্রাক্কলিত মূল্য কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ থ্রেশহোল্ডের মধ্যে এনে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং অন্য প্রতিযোগী দরদাতাকে প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।


‎অভিযোগকারীদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ এর ধারা ৯ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ এর রুল ১৬, ৩১, ৩৩, ৯৮ ও ১০০-এর লঙ্ঘন। তারা বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


‎অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক কম দরকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা সরকারি ক্রয়বিধির পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।


‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


‎অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ হবে।



ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল