বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ সংঘর্ষ, এলাকায় আতঙ্ক—বসতবাড়ি ছাড়ছেন অনেকে
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫
লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ সংঘর্ষ, এলাকায় আতঙ্ক—বসতবাড়ি ছাড়ছেন অনেকে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে লাশ দাফন নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে অন্তত ১০টি বাড়িঘর ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। সংঘর্ষের ভয় এখনো কাটেনি—অনেকে পরিবার-পরিজন ও আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়ছেন।
স্থানীয়দের তোলা ছবিতে দেখা গেছে, গ্রামজুড়ে ভাঙচুরের চিহ্ন আর আতঙ্কের ছাপ। কেউ কেউ মালামাল নিয়ে ট্রলারে, কেউ আবার ভ্যান ও অটোরিকশায় করে গ্রাম ত্যাগ করছেন।
বিরোধের সূত্র: পরিবারভিত্তিক বিভাজন
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাচ্চু গ্রুপ ও হারুন গ্রুপের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। এই দ্বন্দ্বে যুক্ত হয় গ্রামের হাসিম মিয়ার পরিবার, যার ছয় ছেলের মধ্যে চারজন—নোয়াব মিয়া, আব্দুল হক, ফজলুল হক ও শহীদুল হক—হারুন গ্রুপের সঙ্গে অবস্থান নেন। অপর দুই ছেলে জহিরুল হক ও নুরুল হক যোগ দেন সাচ্চু গ্রুপে।
গতকাল রাতে এই পরিবারের শতবর্ষী বৃদ্ধা মোসাম্মৎ বিবি বেগম মারা যান। তিনি ছোট ছেলে নুরুল হকের সঙ্গে বসবাস করতেন। নুরুল হক তখন কুমিল্লায় ব্যবসায়িক কাজে ছিলেন। কিন্তু তিনি ফেরার আগেই চার ভাই মায়ের দাফন সম্পন্ন করেন।
বাড়িতে ফিরে এসে দাফনের ঘটনা জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নুরুল হক। তিনি অভিযোগ করেন, “আমার চোখের সামনে মাকে শেষবার দেখতে দিল না তারা। বিচার চাই।” এরপর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা চরমে পৌঁছে যায়, যা অল্প সময়েই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
৫ ঘর তাণ্ডব, বিস্ফোরিত ককটেল
সংঘর্ষের সময় সাচ্চু গ্রুপের নাসির উদ্দিন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন। টেটা, তীর ও ইটপাটকেলের আঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ৩০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
বাড়িঘর ও দোকানপাটে আগুন, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় কয়েকটি গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় অনেকেই রাতারাতি মালামাল গুছিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
“আমরা আর এমন রক্তক্ষয় দেখতে চাই না”
বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, “গ্রামে এমন নৈরাজ্য আমরা জীবনে দেখিনি। পুলিশ এলেও ভয় কাটেনি, যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষ হতে পারে।”
নিহতের মেয়ে সাবিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।” একই দাবি জানান নিহতের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম—“প্রয়োজনে বাড়ি বিক্রি করব, তবুও স্বামীর হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত থামব না।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সেনাবাহিনী এসে নিয়ন্ত্রণ নেয়।
রাত পর্যন্ত গ্রামজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন