বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনিশ্চয়তায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ১১ হাজার শিক্ষার্থী
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৫
অধ্যাদেশ ছাড়াই ভর্তি, অনিশ্চয়তায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ১১ হাজার শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার নতুন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়—নাম ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ (Dhaka Central University)। তবে এখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি হয়নি, নির্ধারিত হয়নি শিক্ষা মডেল ও কাঠামো। তবুও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে শিক্ষার্থী নেয়া হয়েছে—ফলে এখন ১১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় ক্লাস শুরু হয়নি, আর শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যেই সেশনজটে পড়েছেন।
নূরনবী ইসলাম, যিনি এ বছর ঢাকা সেন্ট্রালে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, বলেন—
> “আমি দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিই, এতে এক বছর নষ্ট হয়। এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আরও এক বছর চলে গেলো, অথচ ক্লাস শুরুই হয়নি। মানে আমি দুই বছর পেছনে পড়ে গেলাম।”
শুধু নূরনবী নন, আরও ১১ হাজার শিক্ষার্থী একই অবস্থায় আছেন। তাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত পরিচয় নেই; কোনো প্রতিষ্ঠানই তাদের দায়িত্ব নিতে রাজি নয়। একাধিকবার স্মারকলিপি ও আন্দোলন করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন—অন্তত অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজ ব্যবস্থায় ক্লাস চালু করা হোক।
? বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে জটিলতা:
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশের খসড়া মতামত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় মৌলিক বিভাগ বাদ পড়া ও নারী শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
শিক্ষকরা বলছেন, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন এখনো কার্যকর হয়নি, তাই ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলে তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
? শিক্ষাবিদদের মত:
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন না করেই ভর্তি শুরু করা একটি অপরিণামদর্শী ও অবিবেচক সিদ্ধান্ত। তাদের মতে, সরকারের এখনই উচিত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিচয় স্পষ্ট করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন,
> “বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো, শিক্ষক, পাঠ্যক্রম—কিছুই ঠিক হয়নি। এমন অবস্থায় ভর্তি নেয়া শুধু ভুল নয়, শিক্ষার্থীদের প্রতি এটি একটি অন্যায়।”
এদিকে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জানিয়েছেন,
> “আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন হবে। সব প্রস্তুতি শেষ হলেই ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে।”
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন